Saturday , May 15 2021

অবশেষে বাংলাদেশের কাছে হাত পাতল ভা’রত!

প্রা’ণঘা’তী করো’না ভাই’রাসে ভ’য়াব’হ বি’পর্যের মুখে ভা’রত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে ভা’রতে করো’না পরিস্থিতির ভ’য়াব’হ তথ্য উঠে এসেছে।

যাতে বলা হয়েছে, প্রকৃত মৃ’ত্যু’র সংখ্যা নথিভুক্তের চেয়ে অনেক বেশি। আর আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যাও ৫০ কোটির বেশি হতে পারে।ভা’রতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, এমন ভ’য়ংক’র অব’স্থার মধ্যে করো’নার চি’কিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রেমডিসিভিরের জন্য বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, মিসর ও সংযু’ক্ত আরব আমিরাতের দারস্থ হয়েছে ভা’রত। ভা’রতীয় গণমাধ্যম দ্যা কুইন্ট জানিয়েছে, এরই মধ্যে ভা’রতের করো’নায় বি’পর্য’স্ত দুই প্রদেশ মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খন্ড বাংলাদেশ থেকে রেমডিসিভির রপ্তানীতে অনুমতি চেয়েছে।

এদিকে ওষুধটির প্রস্তুতকারক মা’র্কিন সংস্থা গিলিয়াড সায়েন্সেস ভা’রতকে সাড়ে চার লাখ শিশি রেমডেসিভির সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে। ক’রো’নার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভা’রতে চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ভাই’রাল ওষুধ রেমডিসিভিরের চাহিদা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় কোম্পানিগুলো সেই চাহিদা মেটাতে পারছে না।

ফলে কালোবাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এই ওষুধ। ভা’রতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার জানায়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) মধ্য প্রদেশে রেমডেসিভির কালোবাজারির দায়ে এক চিকিৎসকসহ চারজনকে গ্রে’ফ’তার করেছে দেশটির পু’লিশ। তাদের কাছ থেকে উ’দ্ধার করা হয়েছে চার পিস ওষুধ।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জনায়, উ’দ্ধা’র হওয়া ওষুধগুলো বাংলাদেশে তৈরি। সেগুলো কালোবাজারে প্রতি পিস ২০ হাজার রুপি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছিল। কালোবাজারিদের কাছ থেকে উ’দ্ধার করা ওষুধগুলোর গায়ে ‘রেমিভির ১০০’ লেখা ছিল, যা রেমডেসিভির ইনজেকশনের একটি ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের এসকেএফ ফার্মাসিটিক্যাল এটি উৎপাদন করে।

এদিকে চলমান এই সং’কটের কারণে চলতি মাসের শুরুতে ভা’রত রেমডিসিভির এবং এর কাঁচামাল আম’দানির ওপর আরোপিত কর মওকুফ করে। ভা’রত বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অক্সিজেন উৎপাদন প্ল্যান্ট, কনসেনট্রেটর ও রেমডিসিভিরের মতো জরুরি ওষুধ সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে ভা’রতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয় বা সংগ্রহের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে ভা’রতে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় ১০ হাজার ইনজেক্টেবল অ্যান্টি-ভাই’রাল, ওরাল অ্যান্টি-ভাই’রাল, ৩০ হাজার পিপিই কিটস এবং কয়েক হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-সি পাঠানো হবে।গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তিতে বলা হয়, ভা’রতে ক’রো’না পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির প্রেক্ষাপটে দেশটির জনগণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

ভা’রতকে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তার মধ্যে থাকছে প্রায় ১০ হাজার অ্যান্টিভাই’রাল ইনজেকশন ও মুখে গ্রহণের ওষুধ, ৩০ হাজার পিপিই, কয়েক হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট।ভা’রতে মানুষের মৃ’ত্যুতে গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তিতে বলা হয়,

এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ তার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভা’রতের পাশে আছে। ভা’রতের প্রতি বাংলাদেশ সংহতি জানাচ্ছে। মানুষের জীবন বাঁ’চানোর সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। সংবাদ বি’জ্ঞ’প্তিতে আরও বলা হয়, ভা’রতের জনগণের দুর্ভোগ যাতে লাঘব হয়, সে জন্য বাংলাদেশের জনগণ প্রার্থনা করছে। প্রয়োজনে ভা’রতকে আরও সহায়তা দিতে বাংলাদেশ আগ্রহী।