Saturday , May 15 2021

জে’নে নিন সংসারের খরচ কমানোর ১৫ উপায়

দৈনন্দিন জীবনে চা’হিদা দিন দিন বাড়ছেই। কিছুতেই রাশ টেনে ধ’রা যাচ্ছে না সংসারের খরচের। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের মিল নেই। তাই মাস শেষে ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেকে। কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই আপনি আপনার প্রতি মাসের খরচ যেমন কমিয়ে আনতে পারেন, তেমনি পারেন সেই টাকা থেকে কিছুটা আপনার ভবিষ্যতের জন্যে সঞ্চয় ক’রতেও!

কিভাবে সংসারের খরচ কমানো যায় সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য তেমনই ১৫টি টিপস নিচে তুলে ধ’রা হলো।

১)ঋণ শোধ করুনঃ মাসের শুরুতে বেতন পেয়েই সবার আগে আপনার ঋণ শোধ ক’রতে চেষ্টা করুন। পুরোটা না পারলেও যতটা সম্ভব করুন। ঋণ শোধ না করে সঞ্চয়ের পথে বা ভুলেও বাড়াতে যাবেন না।

২)প্রতিদিন কিছু না কিছু জমানঃ প্রতিদিনই চেষ্টা করুন কিছু না কিছু টাকা জমাতে। হতে পারে সেটা ১০-১০০ টাকা। যাই হোক না কেন জমান। এবং সেটার কথা ভুলে যান। ভুলেও সেটায় হাত দেবেন না।

৩)সন্তানকে সঞ্চয় ক’রতে শেখানঃ সন্তানকে ছোট্ট একটা ব্যাঙ্ক কিনে দিন। মাটির বা প্লাস্টিকের। খুব রঙ্গিন বা আকর্ষনীয় পুতুল আ’কারের ব্যাঙ্ক কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলোর একটা কিনুন ও তাকে টাকা জমাতে সাহায্য করুন।

৪)কিছু কেনার আগে ভাবুনঃ আমাদের অনেকেরই অভ্যাস হল রাস্তায় যেতে যেতে কোন দোকানে কিছু পছন্দ হলে হুট করে কিনে ফেলা। এটা করার ফলে বেশীরভাগ সময়েই আম’রা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে ঘর বোঝাই করে ফেলি। জিনিস পছন্দ হয়ে গেলেই হুট করে কিনে না ফে’লে একটু ভেবে নিন। দরকার হলে ১/২ দিন পরে কিনুন।

৫)শপিং এ যাবার আগে লিস্ট করুনঃ শপিং এ যাবার আগে লিস্ট করুন। জামা কাপড় কেনার আগে দেখে নিন আপনার কি কি আছে এবং কি কি আ’সলেই কেনা প্রয়োজন।

৬)লক্ষ্য ঠিক করুনঃ ভবিষ্যতে আপনার বিগ বাজেটের কি কি কিনতে হবে সেটার একটা তালিকা করে সময়সীমাও নির্ধারণ করুন। যেমন, ৫ বছর পর ফ্ল্যাট, ১ বছর পর টিভি আর এক মাস পর ওভেন। এভাবে ঠিক করে কত টাকা করে জমালে এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব, সেটি খেয়াল রাখু’ন ও সে অনুযায়ী পদক্ষে’প নিন।

৭)বাজেট করুনঃ একটি বাজেট ক’রুণ এক বছরের। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসুন। সবার মতামত নিন। এতে পরবর্তীতে জটিলতা তৈরি হবে না। প্রয়োজনীয় চা’হিদার পাশাপাশি অবশ্যই রাখবেন সঞ্চয়ের খাত আর সেই সাথে জরুরী প্রয়োজনের জন্যে আলা’দা একটা বরাদ্দ রাখু’ন। বছর শেষে ওই টাকাটা বেঁ’চে গেলে সেটি পাঠিয়ে দিন সেভিংসে।

8)খরচের হিসেব রাখু’নঃ প্রতিদিন কোথায় কত খরচ হল তার হিসেব একটা খাতায় লিখে রাখু’ন। মাস শেষে সেটি নিয়ে বসুন। এবার দেখু’ন কোন কোন খাতে খরচ বেশী হয়েছে এবং সেগুলো একটু চেষ্টা করলেই কমানো সম্ভব কিনা!

৯)বাইরে খাওয়ার প্র’বণতা কমানঃ শহর জীবনে বাইরে খাওয়ার প্র’বণতা আমাদের অনেকের মাঝেই লক্ষ্য করা যায়। এলাকায় নতুন রেস্তোরাঁ চালু হয়েছে বলেই যে সেখানে সবাই মিলে খেতে যেতে হবে এমন প্র’বণতা কমিয়ে আনা দরকার। প্রতি সপ্তাহে বাইরে খাবার অভ্যাসটা কমিয়ে মাসে একবারে নিয়ে আসুন। মাস শেষে আপনি নিজেই অ’বাক হয়ে যাবেন দেখে, কি পরিমান টাকা আপনি বাঁ’চাতে পেরেছেন!

১০)ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কমানঃ ক্রেডিট কার্ডটা যতটা সম্ভব বাসায়ই ভুল করে রেখে শপিং এ যান। ক্যাশ ব্যবহার করুন। এতে চাইলেও আপনি যথেচ্ছ টাকা খরচ ক’রতে পারবেন না। দেখবেন এভাবে আপনার অনেক টাকা বেঁ’চে গেছে।

১১)ব্র্যান্ডিং প্র’বণতা ত্যা’গ করুনঃ ব’ন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে অযথা ব্র্যান্ডিং প্র’বণতায় ভুগবেন না। আপনাকে ভালো মানায় এমন পোশাক বা এক্সেসরিজ ব্যবহার করুন। এভাবেও কিন্তু আপনি ট্রেন্ডি হয়ে উঠতে পারেন। অযথা দাম দিয়ে ব্র্যান্ড এর পোশাক সব সময় পরার চেয়ে কিছু ব্র্যান্ডেড পোশাক কিনে রাখু’ন বিশেষ উপলক্ষে পরার জন্যে। এতে আপনার অর্থ ও স্ট্যাটাস দুটোই র’ক্ষা পাবে।

১২)সেভিংস স্কীম খুলুনঃ ব্যাঙ্কে সেভিংস স্কীম অবশ্যই খু’লে ফেলুন। মাসিক হারে যতটুকুই সম্ভব যেটা আপনি কোন রকম চা’প না নিয়ে জমাতে পারবেন এরকম হারে ৩-১০ বছর মে’য়াদী সেভিংস একাউন্ট খুলুন। এতে আপনি কয়েক বছর পরে ভালো অংকের একটা টাকা জমিয়ে ফেলতে পারবেন।

১৩)ইনস্যুরেন্স করুনঃ একটা ভালো কোম্পানিতে ইনস্যুরেন্স করে রাখু’ন। এতে কোন অনাকাঙ্কখিত দুর্ঘ’টনায় আপনার অর্থনৈতিক স’মস্যা মো’কাবেলা ক’রতে পারবেন সহজেই। আর সেই সাথে টাকাটা তো জমলই!

১৪)ছাড়ের সময় পণ্য কিনুনঃ অলংকার বা অন্যান্য পণ্যের দামে বছরের বিশেষ কিছু সময়ে ছাড় দেয়া হয়। চেষ্টা করুন সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে পণ্যটি কেনার। এতে আপনার বেশ কিছু টাকা বেঁ’চে যাবে।

১৫)ঘরের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ অপচয় রো’ধ করুনঃ দরকার না হলে ঘরের পানির ট্যাপ, চুলা ও ইলেক্ট্রনিক জিনিসপত্রের লাইন অফ করে রাখু’ন। বিল কম আসবে। ইলেক্ট্রিসিটি না থাকলে মোমের বদলে চার্জার লাইট ব্যবহার করুন। মোমের গলে যাওয়া অংশগুলো জমিয়ে রাখতে পারেন। গলিয়ে মাঝখানে সুতো দিয়ে আবার মোম বানাতে পারবেন। প্রথমবারের চেষ্টায় খরচ আশানুরূপ কমাতে না পারলে হাল ছেড়ে দেবেন না যেন!

খরচ কমানো খুব ক’ঠিন কিছু নয়। আপনার একটু সদিচ্ছা আর সত’র্কতাই যথেষ্ট!