Saturday , May 15 2021

একটি ঔষধ খান আর আ’নন্দ করুন এবং স’হবা’স করুন…

একটি ঔষধ খান আর আ’নন্দ করুন কাত এবং স’হবা’স করুন সারা রাত।জেনে নিন ঔষধের নাম ও কিভাবে কাজ করে।একটি ঔষধ খান আর আ’নন্দ করুন কাত এবং স’হবা’স করুন সারা রাত।

জেনে নিন ঔষধের নাম ও কিভাবে কাজ করে।একটি ঔষধ খান আর আ’নন্দ করুন কাত এবং স’হবা’স করুন সারা রাত।জেনে নিন ঔষধের নাম ও কিভাবে কাজ করে।না’রীর ক্যানসারউত্তর আমেরিকার ফ্রিসকো শহরে ২০০৯ সালের জুন মাসে একটা হাঁটায় অংশ নিয়েছিলাম। এটা কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না।

এই হাঁটার ইভেন্টের নাম— Susan Komen walk for cure. মূ’লত উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে এই হাঁটার আয়োজন করা হয়।এই হাঁটার প্রধান লক্ষ্য স্ত’ন ক্যানসার রিসার্চ এবং এই ক্যানসারে আ’ক্রান্ত রো’গীদের সাহায্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ। আরেকটি বড় লক্ষ্য যেসব না’রীরা এই ক্যানসারের বি’রুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন,

একটু সুস্থ থাকার জন্য তাদের এই কঠিন লড়াইয়ে উৎসাহ দেওয়া।তাদের প’রস্পরের স’ঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। যেন একজন আরেকজনকে সাহায্য করতে পারেন। খুবই চমৎকার একটা অনুষ্ঠান।এরপর এলেন স্টেজ টু যারা পাঁচ বছরের বেশি বেঁচে আছেন। এ সময় চারদিকে তুমুল করতালি। ক্যানসারের বি’রুদ্ধে তাদের

এই জয়কে উদ্‌যাপন করতে সবাই আজ একস’ঙ্গে। কিন্তু লক্ষ্য করলাম স্টেজ টুতে না’রীদের সংখ্যা কম আগের চেয়ে। ১৮-১৯ জন না’রী এগিয়ে এলেন।তারপর স্টেজ থ্রিতে সংখ্যা কমে ৮-৯ জন। যত স্টেজ বাড়ছিল তত সারভাইভারের সংখ্যা কমে যাচ্ছিল। আর তাদের শা’রীরিক অবস্থা দেখে বোঝাই যাচ্ছিল কী বিশাল একটা ঝড় বয়ে গেছে।

কিন্তু সবারই মুখের হাসিটা দারুণ উজ্জ্বল। আর হতেই হবে কারণ এত তাদের যু’দ্ধ জয়ের হাসি।যখন স্টেজ থ্রি ক্যানসার সারভাইভাররা এগিয়ে এলেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। আমার গ’লার কাছে কিছু একটা দলা পাকিয়ে উঠছে। আমি বুঝতে পারছিলাম আমার বুকের ভে’তর দামামা বাজছে।

আমার বারবার শুধু মনে হচ্ছিল আমার মায়ের কথা।যাকে আমি হা’রিয়ে ফে’লেছি এক বছর আগে। আজকে যেসব না’রীরা স্টেজ থ্রি ক্যানসার নিয়েও ৮-৯ বছরের বেশি সময় বেঁচে আছেন, তাদের মতো একজন জয়িতা হতে পারতেন আমার মা। কিন্তু তিনি হননি। কর্কট রো’গের কাছে তাঁর নি’র্মম পরাজয় হয়েছে।

যখন আমার মায়ের ব্রেস্ট ক্যানসার ধরা পরে আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ক্যানসার ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যায় তিন মাস। আমার মা যখন নিজে বুঝতে পারেন কিছু একটা ভারী অনুভূতি, তখনই স’ঙ্গে স’ঙ্গে কাউকে জানাননি বা ডাক্তারও দেখাননি।

আর ১০টা পরিবারে যেমন হয় ছেলেমে’য়েদের পরীক্ষা, বুয়া নাই ইত্যাদি নানা সাংসারিক কথা চিন্তা করে ভেবেছেন, ডাক্তারের কাছে পরে যাবেন।তারপর সংসারের সব কাজের জালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করতে ভু’লে যান। আমরাও সবাই ছিলাম নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। তাই যখন তিন মাস পর ডাক্তারের কাছে যান তখন ক্যানসার আর স্ত’নে সীমাবদ্ধ নেই।

তা পৌঁছেছে স্টেজে থ্রিতে এবং স’ঙ্গে কমিয়ে দিয়েছে বেঁচে থাকার দিনের সংখ্যা।এরপর আমার মাকে আর সব ক্যানসার রো’গীদের মতোই অসম্ভব কঠিন চিকিৎসা কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। মাঝে মাঝে য’ন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠতেন আমার মা। কড়া কড়া ও’ষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় সারা শ’রীরে আরও নানারকম অসু’খ বাসা বাঁধতে থাকে।

শেষ দিকে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে লিভার, হাড় ও ব্রেনে।মাত্র পাঁচ বছর পর আমার মা তার প্রিয় সংসার ও স’ন্তানদের রেখে চলে যান। যে স’ন্তানের পরীক্ষা ও খাবারের চিন্তা করে তিনি ডাক্তার দেখতে দেরি করেন, সেই স’ন্তানদের আরও অনেক পরীক্ষাই আর তার দেখা হয় না। তাদের কোনো সাফল্য,

কোনো উৎসবের ে আর তিনি অংশ নিতে পারেননি। ডাক্তারের কাছে শুনেছিলাম যদি ক্যানসার কয়েক মাস আগে ধরা পড়ত তাহলে হয়তো আমার মা আরও কয়েকটা বছর হাতে পেতেন। কিন্তু সেই শেষ রক্ষা আর হয়নি।

২০০৮ সালে আমার মা চলে যান পরপারে। আমার স’ঙ্গে শেষ কথা আর হয়নি। হাজার হাজার মাইল দূর থেকে যখন আমার মায়ের কাছে দৌড়ে যাই তখন আমার মা কমায় চলে গেছেন, আমাকে আর চিনতে পারলেন না।

স্ত’ন ক্যানসার না’রীদের যত ধরনের ক্যানসার হয় তার মাঝে অন্যতম। এটা যেকোনো ব’য়সী মে’য়েদের ক্ষেত্রেই হতে পারে। যাদের পরিবারে এই ক্যানসার আছে তাদের যেমন ঝুঁ’কিটা বেশি আবার কোনো পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও হতে পারে। সারা বিশ্বে এই ক্যানসারে আ’ক্রান্ত না’রীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

তারপরও সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো এই ক্যানসার অন্যান্য সব ক্যানসারের তুলনায় সবচেয়ে বেশি নিরাময়যোগ্য। রো’গীরা অনেক ক্ষেত্রেই ক্যানসার নিয়’ন্ত্রণ হয়ে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। তবে সবকিছুর মাঝে একটা ‘যদি’ আছে।

আর সেই যদি হলো Early detection বা দ্রু’ত ক্যানসার নির্ণয়। একজন রো’গী কতটুকু সুস্থ থাকবেন বা ক্যানসার ভবি’ষ্যতে আর ফিরে আসবে কিনা তার পুরোটাই নির্ভর করে কত আগে ও কোন স্টেজে রো’গ ধরা পড়ে। অন্যান্য আর ১০টা ক্যানসারের মতোই এই ক্যানসারের সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো ‘উপসর্গ’।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের ব্য’থা বা উপসর্গ থাকে না। তাই সচেতন না থাকলে ধরা পড়াটাও সহজ নয়।
আমাদের দেশে এখনো বছরে গড়ে ১৪-১৫ হাজার না’রী স্ত’ন ক্যানসারে আ’ক্রান্ত হয়ে থাকেন। আর এর মাঝে ৭-৮ হাজার না’রী অকালে মৃ’ত্যুবরণ করেন। আমাদের দেশে এখনো অনেক ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে না। দরিদ্র না’রীদের ক্ষেত্রে এর কারণ অর্থনৈতিক সং’কট। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মধ্যে কিন্তু তা নয়। তাদের মধ্যে প্রধান কারণ সচেতনতার অভাব, কুসংস্কার ও ধর্মীয় বা’ধা।

এমনিতেই ছোটবেলা থেকে আমাদের দেশে পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মে’য়েদের নিজেদের দে’হ স’ম্পর্কে সচেতন হওয়া বা কথা বলাটা একটা বিরাট ট্যাবু। হ্যাঁ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মেখে ফরসা হওয়া বা নিয়মিত পারসোনা, ফারজানা শাকিল ইত্যাদি পারলার গিয়ে টাকা ঢেলে রূপচর্চা করতে অনেককেই দেখা যায়। কিন্তু শা’রীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য কোনো ধরনের সচেতনতা মে’য়ে বা না’রীদের মধ্যে খুবই কম।

তারপর একজন মে’য়ে যখন বিয়ের পর স’ন্তান ও সংসারের আরও অনেক কাজের মাঝে ডুবে যান তখন নিজের কথা ভাবার বা লক্ষ্য করার সময়টুকু আর তার থাকে না। আর আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক ব্যবস্থাটাও এমন যে সেখান থেকেও খুব বেশি উৎসাহ পাওয়া যায় না।

বরং কেন বাড়ির মা পরিবারের সবার খেদমত করতে আরও বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন না সে বি’ষয়ে কথা বলতে কেউ ছাড় দেয় না। তাই বাড়ির মার দিন কে’টে যায় হোমওয়ার্ক, স্কুলে পৌঁছানো, রান্নার তদারকি, বুয়া খোঁজা, সময় অসময়ে বাজার আর সামাজিক নানা দায়িত্ব পালন করে।