Friday , April 16 2021

এসআইকে বিয়ে করে প্রশংসায় ভাসছেন সহকারী নারী পুলিশ সুপার

উজ্জল-ঊর্মির সম্পর্কের শুরুটা ফেসবুকে হাই-হ্যালো থেকে। এরপর দুজনের মধ্যে ভালোলাগা-ভালোবাসার জন্ম। অতঃপর মধুর পরিণয়। এখন তারা সুখী ও অনুকরণীয় পুলিশ দম্পতি।

উজ্জল কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আর ঊর্মি রেলওয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত আছেন।

একই বাহিনীতে নিজের থেকে নিম্ন পদের কর্মকর্তাকে বিয়ে করে আফসোস নেই, বরং উজ্জলের মতো ভালো মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে গর্ববোধ করেন এএসপি ঊর্মি।

ঊর্মি দেব চট্টগ্রাম মহানগরের চাঁন্দগা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আর উজ্জল ঘোষের বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলায়। গত ২০২০ সালের ৩১ নভেম্বর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। ঊর্মি ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন সদস্য। তার বাবা পেশায় আইনজীবী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে ঊর্মিই বড়। তার ছোট ভাই ৩৭তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন সদস্য। আর উজ্জলের বাবা একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে উজ্জল দ্বিতীয়।

এএসপি স্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে এসআই উজ্জলের দেয়া পোস্ট রীতিমোত ভাইরাল হয়ে গেছে। প্রশংসায় ভাসছেন এই এসআই-এএসপি দম্পতি।

গত ১৭ মার্চ ঊর্মি দেবের পাশে দাঁড়িয়ে তার কার্যালয়ে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে উজ্জল ঘোষ লেখেন, পুলিশিং পেশার ব্যাপারে যাদের একটু ধারণা আছে, তারা বলতে পারবেন অবস্থানগত দিক থেকে আমার সহধর্মিণীর অবস্থান আমার থেকে কতটা ওপরে। না, আমাদের বিয়ের পর আমাদের কারও চাকরি হয়নি। আমার ও আমার সহধর্মিণীর অবস্থানের এই আকাশ-পাতাল পার্থক্যের তোয়াক্কা না করে এই দেবীতুল্য মানুষটা আমাকে আপন করে নিয়েছিলেন।

যখন অহরহ পোস্ট দেখি মেয়েরা লোভী হয়, মেয়েরা বিসিএস স্বামী খুঁজে পেলে সব ছাড়তে পারে, মেয়েরা টাকা আর অবস্থান ছাড়া আর কিছু বোঝে না, আমার তখন খুব হাসি পায়। মায়ের জাত নিয়ে কী আমাদের চিন্তাধারা এটা ভেবে। একজন বিসিএস কর্মকর্তা যে কিনা আমার মতো একজন সামান্য মানুষকে এতটা আপন করে নিয়েছেন তিনিও তো একজন মেয়ে।

উজ্জল ঘোষের এই পোস্ট ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন উজ্জল-ঊর্মি দম্পতি। তবে কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্যও করছেন তাদের নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের আখাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ঊর্মি দেব ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২০১৯ সালে পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণে গিয়ে উজ্জলের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওদের প্রশিক্ষণ তখন শেষ পর্যায়ে ছিল। সেখানে ফেসবুকেই আমাদের পরিচয় হয়। এরপর মাঝে-মধ্যে কথা বলতাম। সেই থেকে আমাদের মধ্যে ভালোলাগা তৈরি হয়। আমরা যাওয়ার তিন-চার মাস পরেই ওরা প্রশিক্ষণ শেষ করে বের হয়ে যায়। এরপর মাঝে-মধ্যে কথাবার্তা হতো। আমরা দুইজন দুইজনের পরিবারে আমাদের বিষয়টি জানাই। পরে পারিবারিকভাবেই আমাদের বিয়ে হয়।

এএসপি ঊর্মি আরও বলেন, সব মা-বাবাই চায় মেয়ের চেয়ে ওপরে অথবা সমপর্যায়ের কারো সঙ্গে বিয়ে দিতে। আমার পরিবারও চাইতো অন্তত আমার সমপর্যায়ের কাউকে যেন বিয়ে করি। কিন্তু উজ্জল পদে আমার জুনিয়র হলেও আমার পরিবার আমাকে বাধা দেয়নি। এটাতে আমার কোনো মহত্ত্ব দেখানোর ব্যাপার নেই। আমি মনে করি একজন ভালো মানুষ পাওয়া খুব জরুরি। আমি চাইলেই ক্যাডার সার্ভিসের অথবা অন্য বড় কাউকে চাইতে পারতাম। কিন্তু ভালো মানুষ তো সবখানে পাব না। আমি উজ্জলের মতো একজন ভালো মানুষ পেয়েছি।

তবে ফেসবুকে ছবি ভাইরাল হওয়া নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে উজ্জল ঘোষ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি একটা ছবি আপলোড করেছি- মানুষ এটাকে যার যার মতো করে ভাইরাল করছে। আমার এই জনপ্রিয়তা দরকার নেই। আমার সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দরকার। আমি চাকরিজীবী, আমার একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। আমি যদি পাবলিক ফিগার হতাম তাহলে আমার ব্যাপারে সব কিছু জানার অধিকার থাকত। কিন্তু আমি তো পাবলিক ফিগার না। আমি সামান্য একজন চাকরিজীবী।