Wednesday , June 29 2022

‘এখন থেকে যে এলাকায় যাব সে এলাকার মানুষ আর না খেয়ে থাকবে না’

সিলেটে ও সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের সহায়তায় গেল সপ্তাহে নিজেই গিয়েছিলেন তাশরীফ। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ১৬ জুন প্রথমবার নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক থেকে লাইভ করে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে অর্থ সহায়তার আহ্বান করেন। প্রথম লাইভে খুব কম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা পান। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বানভাসি মানুষদের সহায়তার আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় ‘কুঁড়েঘর’ ব্যান্ডের তরুণ শিল্পী তাশরীফ খান। তার আহ্বানে বন্যার্তদের তহবীল ফান্ডে এখন পর্যন্ত কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এমন সাড়া পেয়ে আপ্লুত এই তরুণ শিল্পী সিলেটের স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের বানভাসি মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেন। মানুষের পাঠানো টাকা স্বচ্ছতার সাথে লাইভে এসে সমস্ত বিবরণও দিতে দেখা যায় এই তরুণকে। বানভাসি মানুষের জন্য তরুণ শিল্পীল এমন উদ্যোগ প্রশংসিত হয় সর্বস্তরে। ১৯ জুন আরও একটি লাইভে এসে দ্বিতীয়বারের মতো বানভাসি মানুষের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেন তাশরীফ। এবার ঘটে আরও অভাবনীয় ঘটনা। তরুণ গায়কের এমন প্রচেষ্টায় সাড়া দেয় আরও বেশি সংখ্যক মানুষ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবার তাশরীফের ফান্ড তহবীলে জমা পড়ে কোটি টাকার বেশি!

গত বুধবার রাতে তাশরীফ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ‘কিছুটা সস্তির সাথে জানাচ্ছি দ্বিতীয় বার ফান্ড কালেকশন শুরু করার পর প্রথম ২৪ঘন্টায় আমরা ১ কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করেছি। এখন পর্যন্ত খুব সম্ভবত ১কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি এসেছে এবং আসছে বাকিটা কাল (বৃহস্পতিবার) হিসেব করে জানাব।’

তাশরীফ বলেন, ‘গত কয়েকদিনে আমরা ৩ হাজারের বেশি পরিবারের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছি এবং আরও দিচ্ছি প্রতিদিন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেসব জায়গায় একেবারেই খাবার যাচ্ছে না সেসব জায়গাগুলোতে পৌঁছাবার। কটা ব্যাপারে সবাইকে আস্বস্ত করতে চাই, এখন থেকে যে এলাকায়ই যাব সে এলাকার কোন মানুষের আর না খেয়ে থাকা লাগবে না। এইটুকু জিনিস নিশ্চিত করার জন্যেই বার বার করে সবাইকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াচ্ছি।’

এই তরুণ বলেন,‘আমাদের আরেকটা উদ্যোগ সম্পর্কে জানাতে চাই। খুব শিগগির আমরা একেবারে বঞ্চিত এলাকাগুলোর বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন বেলা রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করব। শুকনো খাবার খেয়ে আর কতদিন ই বা থাকতে পারে, বলেন। প্ল্যানিং চলছে। আমরা হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমরা আমাদের প্রতিটা ধাপে কাজ শুরু করার আগে অন্তত কয়েকশ বার ভেবে প্রোপার প্ল্যানিং করেই কাজ করে যাচ্ছি এবং যাব। আমি জানি শুধু সিলেট না, অন্যন্য বেশ কিছু জেলায় বন্যার পরিস্থিতি ভালো না। দূর থেকে অনেকেই বলছেন ফান্ড পাঠাতে কিন্তু আমি এখানে থেকে কোথাও ফান্ড পাঠাতে পারছি না। কারণ এই টাকাগুলো আমার কাছে আমানত। শিগগির আমি অন্যান্য জেলায় নিজে গিয়ে কাজ করব এবং যা ই করি সবাইকে জানিয়ে করব।’