Friday , May 27 2022

পরিবারের শর্ত ছিল আগে কোরআনে হাফেজ হতে হবে, তারপর ক্রিকেট

যার ধমুনীতে ক্রিকেটীয় রক্ত বইছে তাকে কী ব্যাট-বল থেকে দূরে রাখা সম্ভব! ক্রিকেটার আব্দুল্লাহ আল মামুনের জীবনেও তাই ঘটেছে। কোন বাঁধা তাকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখতে পারেনি। তাহলে জানা যাক বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম সৈনিক এই ব্যাটিং অলরাউন্ডারের কথা।

বড় ভাইদের সঙ্গে ১৩ বছর বয়সী মামুন খেলতে নামলেই দেখাতেন তার জাদু। টেপটেনিস বলে বিশাল বিশাল ছক্কা মেরে আনন্দে ভাসাতেন গ্রামবাসীকে। বড় ভাইরা তখনই বুঝতে পারেন, মামুন কোনও সাধারণ ছেলে নয়, ক্রিকেটের জীবন বেছে নিলে তার সামনে অপেক্ষা করছে ঝলমলে এক ভবিষ্যৎ। তাদের কথাগুলোয় মামুনের মনে জন্ম নেয় সুপ্ত বাসনা। চাইতেন ক্রিকেটে ভর্তি হতে। কিন্তু পরিবারের শর্ত ছিল, আগে হাফেজ হতে হবে, তারপর ক্রিকেট।

ছয় বছরে কোরআন মুখস্থ করার পর ২০১৭ সালে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হওয়া মামুন অনুমতি পান রংপুর ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হওয়ার। সেখান থেকেই ক্রিকেট বলে ক্রিকেটার হয়ে ওঠার মিশন শুরু।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মামুন নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে থাকেন। হুট করেই রংপুর থেকে গাজী ক্রিকেট হান্টে সুযোগ পেয়ে যান। সাকিব আল হাসানের শৈশবের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের চোখে পড়তেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মামুনের ক্যারিয়ারের ওটাই যে টার্নিং পয়েন্ট! হুট করে পাওয়া ইনজুরিতে বেশ কয়েক দিন ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন। কিছুটা ভালো হওয়ার পর রংপুরের বিভিন্ন জেলার হয়ে টুকটাক খেলছিলেন। সেই সময়ই সালাউদ্দিনের ফোন। ঢাকায় তৃতীয় বিভাগে সুযোগ পেয়ে ৩৪ রান করতেই ডাক পড়ে যুব চ্যালেঞ্জ সিরিজে। চ্যালেঞ্জ সিরিজের দুই ইনিংসে ৩৪ ও ৭৮ রানের ইনিংসে পেয়ে যান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের টিকিট।