Thursday , May 26 2022

হৃ’দরোগের ঝু’কি এড়াতে ডাঃ দেবি শেঠির কিছু চ’মৎকার প’রামর্শ মেনে চলুন

দেবি শেঠি ভারতের বিখ্যাত চিকি’ৎসক। বলা হয়, বিশ্বের সেরা ১০ জন সার্জনের একজন তিনি।বাংলাদেশেও তিনি বেশ পরিচিত। ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূ’রে শেঠির নারায়ণা হৃদয়ালয় হাসপাতালটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল।

হৃদরো’গ এড়ানোর জন্য তিনি চমৎকার কিছু পরাম’র্শ দিয়েছেন। আসুন প্রশ্ন এবং উত্তরের মাধ্যমে তার পরাম’র্শগুলো জে’নে নেই-

প্রশ্ন: হৃদরো’গ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এমন মানুষেরা কিভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে পারে?

দেবি শেঠি:

১. খাবারের বিষয়ে স’চেতন হতে হবে। শর্করা এবং চর্বিজাত খাবার কম খেতে হবে। আর আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্ত’ত পাঁচদিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে হবে। লিফটে চড়া এড়াতে হবে। একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না।
৩. ধূমপান ত্যা’গ ক’রতে হবে।
৪. ওজন নি’য়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৫. র’ক্তচা’প এবং সুগারের পরিমাণ নি’য়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

প্রশ্ন: মাঝে মাঝে শোনা যায় সু’স্থ মানুষ হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত হচ্ছে যা খুবই দুঃ’খজ’নক। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?
দেবি শেঠি: এটাকে বলে নীরব আ’ক্রমণ। এজন্যই ত্রিশোর্ধ্ব সকলের উচিত নিয়মিত স্বা’স্থ্য পরীক্ষা করা।
প্রশ্ন: মানুষ কি উত্তরাধিকারসূত্রে হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত হতে পারে?

দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের ওপর চা’প প’ড়ে কেন? এর থেকে উত্তরণের উপায় কি?
দেবি শেঠি: জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ক’রতে হবে। জীবনে সব কিছু নিখুঁত হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রশ্ন: জগিং করার চেয়ে কি হাঁটা ভালো? নাকি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার জন্য আরো ক’ঠিন ব্যায়াম জ’রুরি?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, জগিং করার চেয়ে হাঁটা ভালো। জগিং করলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং জয়েন্টে ব্য’থা হয়।

প্রশ্ন: দরি’দ্র এবং অভাবগ্রস্তদের জন্য আপনি অনেক কিছু ক’রেছেন। এসবের পেছনে অনুপ্রেরণা কি ছিল?
দেবি শেঠি: মাদার তেরেসা। তিনি আমা’র রো’গী ছিলেন।
প্রশ্ন: নিম্ন র’ক্তচা’পে যারা ভো’গেন, তারা কি হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত হতে পারে?

দেবি শেঠি: সেটা হবে খুবই বিরল।
প্রশ্ন: কোলেস্টেরলের মাত্রা কি অল্প বয়স থেকেই বাড়তে থাকে? নাকি ত্রিশের পর এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত?
দেবি শেঠি: না, কোলেস্টেরলের মাত্রা ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
প্রশ্ন: অনিয়মিত খাদ্যাভাস কিভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্র’ভাব ফে’লে?
দেবি শেঠি: অনিয়মিত খাদ্যাভাস মানুষকে জাঙ্ক ফুডের দিকে ঠেলে দেয়। আর তখনই হ’জমের জন্য ব্যবহৃত এনজাইমগুলো দ্বিধায় প’ড়ে যায়।

প্রশ্ন: ওষুধ ছাড়া কিভাবে কলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
দেবি শেঠি: নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, হাঁটাহাঁটি এবং আখরোট খাওয়ার মাধ্যমে।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খা’রাপ খাবার কোনটি?
দেবি শেঠি: ফল এবং সবজি সবচেয়ে ভাল খাবার। আর সবচেয়ে খা’রাপ তৈলাক্ত খাবার

প্রশ্ন: কোন তেল ভলো? সূর্যমুখী নাকি জলপাই?
দেবি শেঠি: যেকোনো তেলই খা’রাপ।
প্রশ্ন: নিয়মিত স্বা’স্থ্য পরীক্ষার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা আছে?

দেবি শেঠি: নিয়মিত র’ক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বা’ভাবিক মাত্রা স’ম্পর্কে নি’শ্চিত হতে হবে। তাছাড়া র’ক্তচা’প পরিমাপও জ’রুরি।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিকভাবে কি কি পদক্ষে’প নিতে হবে?

দেবি শেঠি: রো’গীকে প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে। এরপর জিহ্বার নিচে একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে। যদি পাওয়া যায় তবে এ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেটও রাখতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেবার ব্যব’স্থা ক’রতে হবে। কেননা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষ’তি হয়।

প্রশ্ন: হৃদরো’গজনিত ব্য’থা এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্য’থার মধ্যে পার্থক্য করা যায় কিভাবে?
দেবি শেঠি: ইসিজি ছাড়া এটা সত্যিই খুব ক’ঠিন।
প্রশ্ন: যুবকদের মধ্যে হৃদযন্ত্ সংক্রা’ন্ত স’মস্যার আধিক্যের কারণ কি?
দেবি শেঠি: একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ধূমপান এবং জাঙ্ক ফুড। তাছাড়া ব্যায়াম না করাও একটি প্রধান কারণ। কিছু কিছু দেশের মানুষের জে’নেটিক কারণেই ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

প্রশ্ন: র’ক্তচা’পের স্বা’ভাবিক মাত্রা (১২০/৮০) না থাকলেও কি কেউ পুরোপুরি সু’স্থ থাকতে পারে?

দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে করলে সন্তানের হৃদরো’গ হতে পারে- এটা কি সত্য?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ। নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে জ’ন্মগত অস্বা’ভাবিকতার দিকে ঠেলে দেয়।
প্রশ্ন: বেশিরভাগ মানুষ অনিয়ন্ত্রিত রুটিন অনুসরণ করে। মাঝে মাঝে মানুষকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এতে কি হৃদযন্ত্রের ক্ষ’তি হয়? যদি হয় তবে এক্ষেত্রে কি পদক্ষে’প নেয়া যেতে পারে?
দেবি শেঠি: তরুণ বয়সে প্রকৃতি মানুষকে এ ধ’রনের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ক্ষ’তিকর প্র’ভাব থেকে সুর’ক্ষা দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব বিষয়ে স’চেতন হতে হবে।

প্রশ্ন: অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ গ্রহণ করলে অন্য কোন জটিলতা তৈরি হয়?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, বেশিরভাগ ওষুধেরই কিছু পার্শ্ব প্র’তিক্রিয়া আছে। কিন্তু আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগুলো অনেক নি’রাপদ।

প্রশ্ন: অতিরি’ক্ত চা বা কফি খেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
দেবি শেঠি: না।

প্রশ্ন: অ্যাজমা রো’গীদের কি হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।

প্রশ্ন: জাঙ্ক ফুডকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
দেবি শেঠি: যেকোনো ধ’রনের ফ্রাইড ফুড যেমন কেন্টাকি, ম্যাকডোনাল্ডস, সমুচা। এমনকি মাসালা দোসাও জাঙ্ক ফুড।
প্রশ্ন: আপনার মতে ভারতীয়দের হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত হবার সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি। এর কারণ কি?

দেবি শেঠি: পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই কিছু নির্দিষ্ট রো’গে আক্রা’ন্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুঃ’খজ’নক হলেও সত্য, জাতি হিসেবে ভারতীয়দের সবচেয়ে ভ’য়াবহ রো’গে আক্রা’ন্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন: কলা খেলে উচ্চ র’ক্তচা’প কমে?

দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে কেউ কি নিজে নিজে প্রাথমিক চিকিৎ’সা নিতে পারে?

দেবি শেঠি: অবশ্যই। তাকে প্রথমেই শুতে হবে এবং একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জিহবার নিচে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত আশপাশের কাউকে বলতে হবে যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি মনে করি অ্যা’ম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যা’ম্বুলেন্স যথাসময়ে হাজির হয় না।

প্রশ্ন: র’ক্তে শ্বেতকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কি হৃদরো’গ হতে পারে?
দেবি শেঠি: না। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বা’ভাবিক থাকা জ’রুরি।
প্রশ্ন: আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক সময় ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ঘরের স্বা’ভাবিক কাজে’র সময় হাঁটাহাঁটি করা অথবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা কি ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে?

দেবি শেঠি: অবশ্যই। একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বসে থাকার অভ্যাস ত্যা’গ ক’রতে হবে। এমনকি এক চেয়ার থেকে উঠে অন্য চেয়ারে যেয়ে বসাও শ’রীরের জন্য অনেকটা সহায়ক।

প্রশ্ন: হৃদরো’গ এবং র’ক্তে সুগারের পরিমাণের সাথে কি কোনো স’ম্পর্ক আছে?
দেবি শেঠি: বেশ গ’ভীর স’ম্পর্ক আছে। ডায়াবেটিস রো’গীদের হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত হবার সম্ভাবনা অনেক।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের অ’স্ত্রোপ’চারের পর কি কি সত’র্কতা অবলম্বন ক’রতে হবে?

দেবি শেঠি: পরিমিত খাদ্যাভাস, ব্যায়াম, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি র’ক্তচা’প এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণ ক’রতে হবে।
প্রশ্ন: যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের কি হৃদরো’গে আক্রা’ন্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?

দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগু কোনগুলো?
দেবি শেঠি: অনেক ওষুধই আছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরাম’র্শ নেয়া জ’রুরি। তবে আমা’র পরাম’র্শ হলো, ওষুধ এড়িয়ে স্বা’ভাবিক পদ্ধতিতে র’ক্তচা’প নিয়ন্ত্রণ করা। আর সেজন্য নিয়মিত হাঁটা, ওজন কমে এমন খাবার খাওয়া এবং জীবনযাত্রার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জ’রুরি।
প্রশ্ন: ডিসপিরিন বা এই ধ’রনের মাথাব্য’থা উপশমকারী ট্যাবলেট কি হৃদরো’গের সম্ভাবনা বাড়ায়?

দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা কেন হৃদরো’গে বেশি আক্রা’ন্ত হয়?
দেবি শেঠি: প্রকৃতি মেয়েদেরকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সুর’ক্ষা দেয়।

প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রকে সু’স্থ রাখার উপায় কি?
দেবি শেঠি: স্বা’স্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও ধূমপান পরিহার ক’রতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম ক’রতে হবে। আর বয়স ত্রিশ পার হলে নিয়মিত স্বা’স্থ্য পরীক্ষা ক’রতে হবে। অন্ত’ত প্রতি ছয় মাসে একবার স্বা’স্থ্য পরীক্ষা ক’রতেই হবে।