Friday , February 26 2021

ম’রণব্যাধী কোলন ক্যান্সার : লক্ষণ ও প্রতিকার

বৃহদান্তের ক্যান্সারকে বলা হয় বাওয়েল বা কোলন ক্যান্সার (Bowel or colon cancer)। ক্ষুদ্রান্তের তুলনায় বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের হার অনেক বেশি। কোলন ক্যান্সার পুরুষদের এবং পশ্চিমা বিশ্বের নারী-পুরুষদের বেশি হওয়ার আশ’ঙ্কা থাকে। এ জন্যই মূলত পুরুষদের কোলন ক্যান্সার বলা হয়েছে। কারণ এ রোগটাতে পুরুষরাই বেশি ভুগে থাকেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের এ রোগের আশ’ঙ্কা বেশি থাকে।

কোলন ক্যান্সার : বৃহদান্ত্রে যখন কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধারা ভঙ্গ হয় এবং কোষগুলো অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় তখন তাকে কোলন ক্যান্সার বলে। বেশিরভাগ কোলন ক্যান্সারই বিভিন্ন ধরনের পলিপ (adenomatous polyp)-এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির (proliferation) ফল। প্রথমে বৃহদন্ত বা অ্যাপেডিক্সের ক্ষুদ্রাকার কোষীয় পিণ্ডে পলিপ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে পলিপ থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে দেহের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ টিস্যুকে আক্রমণ করে।

কোলন ক্যান্সারের কারণ :

১. অন্ত্রের পলিপ (দীর্ঘস্থায়ী ক্ষেত্রে),

২. দীর্ঘস্থায়ী আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগ

৩. বংশগত কারণে জিনের পরিবর্তন হতে পারে যা পরবর্তী সময়ে কোলন ক্যান্সারকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া কারো র’ক্তের স’ম্পর্কের কোনো আত্মীয়-পরিজন কোলন ক্যান্সারে আ’ক্রান্ত থাকলে কোলন ক্যান্সারে আ’ক্রান্ত হওয়ার ঝুঁ’কি বেড়ে যায়।

৪.অ’তিরিক্ত গরু বা ছাগলের মাংস খাওয়া, খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবারের অনুপস্থিতিতেও হয়ে থাকে।

লক্ষণসমূহ :

১. তীব্র পেটব্যথা

২. ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

৩. পেটের ভিতর থেকে খাবার উগড়ে আসা

৪. পায়খানার সঙ্গে র’ক্ত যাওয়া

৫. হঠাৎ ওজন হ্রাস

৬. র’ক্তশূন্যতা

৭. জন্ডিস

প্রতিরোধ :

১. নিয়মিত ভিটামিন, মিনারেলযু’ক্ত খাবার গ্রহণ

২. খাদ্য তালিকায় আঁশযু’ক্ত এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখা

৩. ম’দ্যপান না করা

৪. ধূমপান পরিহার করা

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

৬. দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা

৭. রোগ নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো।