Friday , April 16 2021

প্রথম স্বামীর মামলায় দ্বিতীয় স্বামী কারাগারে, মুক্ত করতে ঘুরছেন ফাতেমা

প্রথম স্বামীকে স্বেচ্ছায় তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজে’লার ফাতেমা বেগম। কিন্তু প্রথম স্বামীর দায়ের করা অ’পহ’রণ মা’মলায় বর্তমান স্বামীকে ২০ বছরের কারাদ’ণ্ড দেন সেখানকার একটি আ’দালত। এখন দ’ণ্ডপ্রাপ্ত স্বামীর মুক্তির জন্য হাই’কোর্টের ঘুরছেন ফাতেমা। জানা গেছে, ২০০৭ সালে একই উপজে’লার মো. জাকির হোসেনকে বিয়ে করেন ফাতেমা। তাদের সংসারে একটি ছে’লে সন্তানও জন্ম হয়। কিন্তু জাকিরের নি’র্যাতন সইতে না পেরে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে তালাক দেন। পরে শাহ আলম নামের একজনকে বিয়ে করেন ফাতেমা। কিন্তু জাকির বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে ফাতেমা’র দ্বিতীয় স্বামী অর্থাৎ বর্তমান স্বামী শাহ আলমের বি’রুদ্ধে ফাতেমাকে অ’পহ’রণ করার মা’মলা করেন। জাকির ও শাহ আলম স’ম্পর্কে দুজন শ্যালক-দুলাভাই।

সেই মা’মলায় শাহ আলম গ্রে’ফতার হন। পরে তিনি জামিনে বের হন। এরপর পাঁচবার কারাগারে ব’ন্দি হন শাহ আলম। এরই মধ্যে ফাতেমা ও শাহ আলম দম্পতির দুটি ছে’লে সন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বরগুনার নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আ’সামি শাহ আলমকে ২০ বছর সশ্রম কারাদ’ণ্ড দেন। এছাড়া এক লাখ টাকা জ’রিমানা করা হয়, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদ’ণ্ড দেওয়া হয়।

বরগুনায় ট্রাইব্যুনালের এপিপি আশ্রাফুল আলম সেদিন বলেছিলেন, শ্যালকের বউ (ফাতেমা) অ’পহ’রণ মা’মলায় দুলাভাই শাহ আলমকে ২০ বছর সশ্রম কারাদ’ণ্ড ও এক লাখ টাকা জ’রিমানা করা হয়। মা’মলা বাদী ফাতেমা’র প্রথম স্বামী জাকিরের অ’ভিযোগ, অ’পহৃত ফাতেমা বাধ্য হয়ে তাকে তালাক দিয়ে শাহ আলমকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু শাহ আলম বলেন, ফাতেমা স্বেচ্ছায় আমা’র সঙ্গে গেছেন এবং আমাকে বিয়ে করেছেন। আম’রা এখন স্বামী-স্ত্রী’। আমাদের দুটি সন্তানও আছে। অন্যায়ভাবে আমাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তারা রায়ের বি’রুদ্ধে আপিল করবেন।

এদিকে ফাতেমা গণমাধ্যমকে বলছেন, আমি অ’পহ’রণ হয়নি। সে (শাহ আলম) আমাকে অ’পহ’রণ করেনি। আমা’র প্রথম স্বামী মিথ্যা মা’মলা দিয়েছে। আমি নিজের ইচ্ছায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আমা’র দ্বিতীয় বিয়ের পরে সে (প্রথম স্বামী জাকির) অ’পহ’রণ মা’মলা করেছে। তবে বরগুনার নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায়ের বর্ণনায় উল্লেখ করেন, ফাতেমা ২২ ধারায় জবাব’ন্দিতে অ’পহ’রণ হননি এবং প্রথম স্বামীকে (জাকির) ডিভোর্স দেওয়া ম’র্মে যে জবানব’ন্দি দিয়েছেন- তা বিশ্বা’সযোগ্য নয়। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় মনে হচ্ছে, ডিভোর্স না দিয়েই তিনি শাহ আলমের কাছে চলে গেছেন। আইনের চোখে এটা অ’প’রাধ মনে হওয়ায় আ’সামিকে শা’স্তি দেওয়া হয়েছে।

শাহ আলম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন হাই’কোর্টে ঘুরছেন ফাতেমা। উচ্চ আ’দালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়ে তার স্বামীকে কারামুক্ত করার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। শাহ আলমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির গণমাধ্যমকে বলেন, বিচারকের নিজস্ব কোনো চোখ থাকে না। তার চোখ হলো এভিডেন্স (তথ্য-প্রমাণ)। এই এভিডেন্স যিনি ভিকটিম তিনি আ’দালতে বলেছেন যে তিনি অ’পহ’রণ হননি। তারপরেও কেন তাকে (শাহ আলম) সাজা দিতে হবে। তাকে কেন পাঁচবার কারাগারে নিতে হবে। কেন ২০ বছর কারাদ’ণ্ড দিতে হবে- এ প্রশ্ন তুলেন হাই’কোর্টের এই আইনজীবী।