Saturday , January 22 2022

ইতিহাস-ঐতিহ্যের আদিনা মসজিদ

আদিনা মসজিদ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার পান্ডুয়ায় অবস্থিত। কিছুদিন আগেও এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ। যদিও এখন আদিনার চেয়েও বড় মসজিদ তৈরি হয়েছে, তবু এই মসজিদের ঐতিহ্য কমেনি এতটুকু।

এর পেছনের দেয়ালে প্রাপ্ত একটি শিলালিপি অনুসারে এটি ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে ইলিয়াস শাহের পুত্র সিকান্দর শাহ কর্তৃক নির্মিত। তিনি ছিলেন ইলিয়াস শাহি বংশের দ্বিতীয় সুলতান।

ইতিহাস বলে, খুব দাপটের সঙ্গে তিন দশক রাজত্ব করেছিলেন তিনি। এমনকি দিল্লির বাদশাহ ফিরোজ শাহ তুঘলককে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, এই সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতেই সুলতান মসজিদটি তৈরি করেছিলেন। সিকান্দর শাহ ছিলেন খুব উচ্চাকাক্সক্ষী সুলতান।

তিনি নিজের রাজ্যে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের আদলে একটা মসজিদ বানানোর পরিকল্পনা করেন। এরপরই শুরু করেন আদিনা মসজিদের নির্মাণকাজ। কাছে গেলে বোঝা যায়, মসজিদটি কতটা জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এই মসজিদে একসঙ্গে ১ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারত। একসময় এটি কেবল বাংলায়ই নয়, বরং গোটা উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ ছিল।

মসজিদের দেয়ালগুলোর নিম্নাংশ পাথরের আর বাকি অংশ ইটের তৈরি। এর আয়তন ২১১০ মিটার। একসময় এর উচ্চতা ছিল প্রায় ১৮ মিটার। মসজিদের গম্বুজের সংখ্যা ৩০৬টি। প্রার্থনা কক্ষের উত্তরে খিলান দ্বারা আচ্ছাদিত পথের ওপরের কয়েকটি ছাড়া বাকি গম্বুজগুলো ত্রিকোণবিশিষ্ট পেন্ডেন্টিভের ওপর স্থাপিত। ভেঙে যাওয়া গম্বুজগুলো উল্টানো পানপাত্রের মতো ছিল, যা সুলতানি আমলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

পশ্চিম দেয়ালের সন্নিকটে এক সারিতে সাতটি মজবুত স্তম্ভের ওপর প্লাটফর্ম (মাকছুরা) তৈরি করা হয়েছিল সুলতান ও তার সঙ্গীদের প্রার্থনার জন্য। প্লাটফর্মের পশ্চিম দেয়ালের উত্তর পাশে সুলতানের প্রবেশের জন্য দুটো দেউড়ি রয়েছে। আদিনা মসজিদের একটি বহুল আলোচিত অনুষঙ্গ হচ্ছে মসজিদের পেছনে সিকান্দর শাহের সমাধি কক্ষ। সম্ভবত পরবর্তী সময়ে পাথরের একটি শবাধার সমাধি কক্ষের মেঝেতে আবিষ্কৃত হওয়ায় বিশ শতকের গোড়ার দিকে এ কাহিনি গড়ে ওঠে।

কিন্তু এ শবাধার সিকান্দার শাহের সমাধি প্রস্তর নয়। মসজিদটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। কালের বিবর্তনে খিলান ছাদযুক্ত প্রবেশদ্বারসহ পশ্চিম দেয়ালের অংশবিশেষ মাত্র টিকে আছে। তবু যেন আগের সেই জৌলুস ধরে রেখেছে দর্শনার্থীদের হৃদয়ে।