Saturday , January 22 2022

একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে একই বাড়িতে বিয়ে

শুধু জন্ম একসঙ্গে হয়েছে তা নয়, মা-বাবা ছন্দে ছন্দে নাম রেখেছেন। এবার একই ক্ষণে বাঁধা পড়েছেন সাতপাকে। এ নিয়ে যথারীতি আলোচনা চলছে বরিশালে। উৎসাহীরা বিয়ের লগ্নে উপস্থিত ছিলেন বিনা নিমন্ত্রণে। আর খবর চাউর হয়ে যাওয়ার পর দ্বিগুন মানুষ মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ঢুঁ মারছেন ব্যতিক্রমী এই বিয়ে দেখতে।

বরিশাল নগরীর নাজির মহল্লা সড়কে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে যমজ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ বোনের বিয়ে হয়েছে। বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী সোনালী কর্মকার সোনা ও রূপালী কর্মকার রূপার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার ইন্দেরহাটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃত নিখিল কর্মকারের যমজ সন্তান সজল ও কাজল কর্মকারের।

সোনা-রূপার বাবা স্বপন কর্মকার বলেন, রাত ৯টায় লগ্ন শুরু হয়। নানা আনুষ্ঠানিকতা ও ধর্মীয় রেওয়াজ পালন করে রাত ১১টায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সৃষ্টিকর্তা আমার মেয়েদের একটি ভালো ঘর দিয়েছেন। ওরা জন্মেছে একসঙ্গে, বড় হয়েছে একসঙ্গে, স্বামীর ঘরও একসঙ্গে করতে পারবে। একে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতায় আসতে পারবে।

তিনি বলেন, জামাই সজল-কাজলের বাবা নিখিল কর্মকার মারা গেছেন অনেক বছর হলো। বাবার রেখে যাওয়া ব্যবসা ওরা দুই ভাই দেখাশোনা করছে।

স্বরূপকাঠির এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বরের সন্ধান পেয়েছেন উল্লেখ করে স্বপন কর্মকার বলেন, আমরাতো একই বর্ণের। মাস দুই আগে বর-কনে দেখাদেখি করে উভয় পরিবার সম্মতিতে আসি। পঞ্জিক‍া অনুসারে রাতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। একই অনুষ্ঠানে আলাদা আলাদা আয়োজনেই ধর্মীয় রীতি অনুসারে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আজই শ্বশুরবাড়ি যাবে সোনা-রুপা।

এই বিয়েতে শুধু মেয়ের পরিবার আনন্দিত তেমন নয়, আনন্দে ভাসছে সজল-কাজলের স্বজনরাও। বরযাত্রী হয়ে আসা উদয় শংকর নামে এক আত্মীয় বলেন, আমার জীবনে এমন মুহূর্ত আগে আসেনি। যমজ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ বোনের বিয়ের ঘটনাটি আসলেই ঐতিহাসিক।

স্থানীয় চা দোকানি জুয়েল মিঞা বলেন, আমার দাওয়াত ছিল না। তারপরও কাল রাতে বিয়ে দেখতে গেছি। বেশ ভালো লাগছে। অনেক শুনেছি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার নানান অনুসঙ্গ থাকে। রাতে নিজ চোখে দেখলাম। জীবনে প্রথম যমজ বিয়ে দেখলাম।

বর-কনে কথা বলতে রাজি না হলেও তারা দেশবাসীর কাছে তাদের সুখের সংসারের জন্য আশীর্বাদ চেয়েছেন।