Friday , April 16 2021

না জে’নে হিজড়ার স’ঙ্গে বিয়ে হওয়া এই নারীর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা

আধুনিক ভা’রতীয় না’রীদের চিন্তাভাবনা-বিবেচনা নিয়ে শুরু হয়েছে বিবিসি হিন্দির বিশেষ ধারাবাহিক প্র’তিবেদন ‘হার চয়েস’। ১২ ভারতীয় না’রীর বাস্তব জীবনের অ’ভিজ্ঞতা,আকাঙ্ক্ষা ও বিকল্পের সন্ধান- এসবই উঠে এসেছে তাদের মুখ থেকে।তারই ধারাবাহিকতায় আজ দক্ষিণ ভারতের এক না’রীর জীবনকথা নিয়ে একটি প্র’তিবেদন করেছে বিবিসি বাংলা। তবে মে’য়েটির অনুরো’ধে প্র’তিবেদনটিতে তার নাম-পরিচয় গো’পন রাখা হয়েছে।সেটি ছিল আমা’র বিয়ের প্রথম রাত।

প্রথমবার কোনো পুরু’ষের স’ঙ্গে অন্তরঙ্গ হতে চলেছিলাম আমি। প্রা’ণের বান্ধবীদের কাছ থেকে শোনা কিছু কথা আর কয়েকটা পর্নো ভিডিও দেখে আমা’র মনের মধ্যে প্রথম রাতের যে ছবিটি বারে বারে মনে পড়ছিল, ই’চ্ছাগুলোও জেগে উঠছিল সে রকমভাবেই। মাথা ঝুঁ’কিয়ে, হাতে দু’ধের গ্লাস নিয়ে আমি যখন শোবার ঘরে প্রবেশ করলাম, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ছবির মতোই সব কিছু চলছিল। আমি তখনও জানতাম না যে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমা’র সেই স্বপ্নগুলো ভে’ঙে যাবে। প্রথম রা’তের স্বপ্নে এ র’কমটা হওয়ার ছিল- আমি ঘরে আসার পর স্বা’মী আমাকে জড়িয়ে ধ’রবে, চু’ম্ব’নের স্রোতে ভাসিয়ে দেবে, আর সারা রাত ধ’রে আমাকে ভালোবাসবে।

কিন্তু বাস্তব যে ছবিটি দেখলাম তা হল- আমি ঘরে ঢোকার আগেই আমা’র স্বা’মী ঘুমিয়ে পড়েছেন। ওই মুহূ’র্তে মনে হল আমা’র অ’স্তিত্বটাই যেন আমা’র স্বা’মী স’ম্পূর্ণভাবে অস্বী’কার করলেন। আমা’র বয়স সেই সময়ে ছিল ৩৫। আমি কৌমা’র্য হারাইনি তখনও। স্বপ্নভঙ্গ কলেজে পড়ার সময়ে বা তার পরে যখন চা’করি করি, তখনও দেখতাম আমা’রই কাছের কোনো ছেলে আর মেয়ের মধ্যে ঘ’নি’ষ্ঠ স’ম্প’র্ক গড়ে উঠছে। তারা একে অন্যের হাত ধ’রে বা কাঁধে মাথা রেখে ঘুরে বেড়াত। আমি মনে মনে ভা’বতাম, আহা! যদি আমা’রও এ রকম কোনো সুযোগ আসত।

আমা’রও তো ই’চ্ছা হতো ওইভাবে কারও ঘ’নি’ষ্ঠ হতে!আমাদের পরিবারটা বেশ বড় ছিল- চার ভাই, এক বোন, ব’য়স্ক বাবা-মা। তবুও আমা’র সবসময়েই একা লাগত। আমা’র ভাইবোনদের সবারই বিয়ে হয়ে গিয়েছিল।তাদের সবার পরিবার ছিল। কোনো সময়ে এটিও মনে হতো যে, ভা’ইবোনেরা কি আমা’র জন্য একটু চিন্তা করে? তাদের কী মনে হয় না যে আমা’রও বয়স হচ্ছে, তবুও আমি ততদিনও একা? আমা’রও তো প্রে’ম ক’রতে ই’চ্ছা করত। একাকীত্ব গ্রাস করছিল আমাকে।কখনও কখনও মনে হতো যে, আমি খুব মো’টা- সে জন্যই আমা’র ই’চ্ছাগুলো পূরণ হয় না।

কিন্তু পুরু’ষ মানুষ কি মো’টা মেয়ে পছন্দ করে না? শুধু কি আমা’র ওজনের জন্য আ’মা’র পরিবার জী’বনস’ঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না? তা হলে কি চিরজীবন আমাকে একাই কা’টাতে হবে? এসব প্রশ্ন আমা’র মনের মধ্যে সব সময়ে ঘুরপাক খেত।অতঃপর বিয়ে শেষমেশ আমা’র যখন ৩৫ বছর বয়স, তখন বছর চ’ল্লিশের একজন আমাকে বিয়ে ক’রতে এগিয়ে এলো। যখন প্রথম দেখা করি তার স’ঙ্গে, তখনই আমা’র মনের মধ্যে থাকা চিন্তাগুলো তাকে জানিয়েছিলাম। সে কোনো কথারই জবাব দেয়নি। আমা’র মনে হতো আমা’র কথাগুলো যেন মন দিয়ে শুনছেই না। সবসময়ে নিচের দিকে তা’কিয়ে থাকত সে।

কোনো ক’থারই জবাব দিত না; শুধু মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিত।আমি ভাবতাম আ’জকাল মে’য়েদের থেকেও অনেক বেশি লজ্জা পায় পুরু’ষ মানুষ। আমা’র হবু স্বা’মীও বোধহয় সে রকম। তাই আমা’র কোনো কথারই জবাব দিচ্ছে না। কিন্তু বি’য়ের পর প্রথম রা’তের ঘ’টনায় আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম।আমি শুধু ভাবছিলাম সে কেন ও রকম আচরণ করল। পরের দিন সকালে আমি যখন জিজ্ঞাসা করলাম, সে জবাব দিল যে তার শ’রীর ভালো ছিল না। কিন্তু তার থেকে আর একটি শব্দও বার ক’রতে পা’রিনি। প্রথম রাতের পর দ্বিতীয়, তৃতীয় রাতও কে’টে গেল এ’কইভাবে। সব গো’পন করা হয় আমি শা’শুড়ির কাছে বিষয়টি জা’নালাম।

কিন্তু তিনিও ছে’লের পক্ষ নিয়ে বলতে লাগলেন। ‘ও লজ্জা পাচ্ছে। ছোট থেকেই মে’য়েদের স’ঙ্গে কথা বলতে অ’স্বস্তিবোধ করে। ছেলেদের স্কুলে পড়াশোনা করেছে তো সে জ’ন্যই। ওর কোনো দিদি বা বোন নেই, কোনো মেয়ে ব’ন্ধুও নেই। সে জন্যই এ রকম আচরণ,’ ব’লছিলেন আমা’র শাশুড়ি। সা’ময়িক স্বস্তি পেয়েছিলাম কথাটা শুনে। কিন্তু ব্যা’পারটি আমা’র মাথা থেকে কিছুতেই গেল না। ওদিকে আমা’র সব ইচ্ছা-আ’কাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন এক এক করে ভে’ঙে যাচ্ছিল। শুধু যে শা’রী’রিক চা’হিদাই আমাকে কুরে কুরে খা’চ্ছিল তা নয়। আমা’র স্বা’মী কোনো কথাই বলত না। আমা’র মনে হতে লাগল যে, ও সবসময়েই আমাকে উ’পেক্ষা করা হচ্ছে।

আমা’র থেকে সে পা’লিয়ে পা’লিয়ে বেড়াচ্ছে। যখন কোনো না’রী পোশাক ঠিক করে, তখনও পু’রুষ মানুষ আড় চোখে সেদিকেই তাকিয়ে থাকে। কিন্তু আমি যদি রাতে সব পো’শাক খু’লেও ফেলি, তা হলেও আমা’র স্বা’মী স’ম্পূর্ণ উ’দাসীন থা’কতেন। তা হলে কি আমা’র ওজন তার এই ব্যবহারের কারণ? কোনো চা’পে পড়ে আমাকে বি’য়ে করেছে সে? এসব প্রশ্ন আমা’র মনের মধ্যে আ’সতে শুরু করেছিল তখন। কিন্তু এসব কথা কারও স’ঙ্গে যে শে’য়ার করব, সেই উপায় নেই। আর কত অ’পেক্ষা আমা’র প’রিবারের কারও স’ঙ্গে এ নিয়ে কথা বলার উপায় ছিল না। কারণ সেখানে সবাই মনে ক’রতে শুরু ক’রেছিল যে আমি খুব ভালো আছি।

এদিকে আ’মা’র অপেক্ষার সী’মা’রেখা ভা’ঙার দিকে চ’লেছে। আমাকে এ স’মস্যার সমা’ধান নিজেকেই বের ক’রতে হবে। বে’শিরভাগ ছুটির দিনেও আমা’র স্বামী বা’ড়িতে থাকত না। হয় কোনো ব’ন্ধুর বাড়িতে চলে যেত বা বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে কোথাও যেত। ঘ’টনাচক্রে সেদিন বাড়িতেই ছিল আমা’র স্বা’মী। আমি ঘরে ঢুকে দরজা ব’ন্ধ করে স’রাসরি জানতে চাইলাম, ‘আমাকে কি প’ছন্দ নয় তোমা’র? আম’রা দুজনে এ’কবারের জন্যও অ,ন্ত,র,ঙ্গ হইনি এতদিনে। তোমা’র স’মস্যাটি কী?’ জলদি জবাব দিয়েছিল- ‘আমা’র তো কোনো স’মস্যা নেই!’ উত্তর পেয়ে আমা’র মনে হল এটিই সুযোগ তার স’ঙ্গে অ,ন্ত,র,ঙ্গ হওয়ার।

আমি আ’কর্ষণ করার চেষ্টা করছিলাম তাকে। কিন্তু কোনো ফ’লই হচ্ছিল না। কোনোভাবেই তাকে উ’ত্তে’জি’ত ক’রতে পারলাম না। আমি বুঝতে পা’রছিলাম না যে এটি নিয়ে কার স’ঙ্গে কথা বলব। একদিন হ’ঠাৎ করেই জা’নতে পারলাম যে সে ন’পুং’সক। বিয়ের আগেই ডা’ক্তাররা এটি তাকে নি’শ্চিত করেছিল। সে নি’জে আর তার বাবা-মা স’বকিছুই জান’তেন। কিন্তু আমাকে কিছু জা’নানো হয়নি। আ’মাকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। আমি সত্যিটি জে’নে ফে’লেছিলাম; কিন্তু তার কো’নো ল’জ্জা ছিল না এটি নিয়ে।