Wednesday , December 1 2021

নিজের সবকিছু বি’ক্রি করে ম’সজি’দে ৮ লা’খ টা’কা দান করলেন পান বিক্রেতা ই’উনু’স

ইউনুস আলী গাজী, যশোরের ঝিকরগাছা উপজে’লার শংকরপুর গ্রামের পান বিক্রেতা। তিনি তিন বছর ধরে নিজের জমানো টাকা ও স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে মোট আট’ লাখ টাকা মসজিদে দান করেছেন।

বাবার আ’ত্মা’র মাগফিরাত কামনায় তিনি এ অর্থ দান করেছেন। তার ওই দানের টাকায় মসজিদের ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ইউনুস আলী গাজী শংকরপুর দক্ষিণপাড়ার মৃ’ত কাশেম গাজীর ছেলে। মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিকরগাছা উপজে’লার শংকরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার রাস্তার পাশে একটা পুকুর ছিল। পুকুরটি জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ভরাট করে প্রথমে টিনের চাল ও পরে টিনের বেড়া দিয়ে

মসজিদ তৈরি করেন এলাকাবাসী। পরে পাকা মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়। কিন্তু অর্থের সঙ্কুলান না হওয়ায় মসজিদের ছাদ নির্মাণ করা যাচ্ছিল না। এ খবর জানতে পারেন ইউনুস আলী। তিনি নিজের জমানো টাকা ও স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে মোট আট’ লাখ টাকার ব্যবস্থা করেন। পরে মসজিদ কমিটির হাতে তুলে দেন এ টাকা। তার ওই টাকায় সোমবার (১১ অক্টোবর) সকালে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে সন্ধ্যায়

শেষ হয়। পানবিক্রেতা ইউনুস আলী গাজী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি একজন সাধারণ পান বিক্রেতা। পান বিক্রির পাশাপাশি মাঠে কিছু জমিও চাষাবাদ করি। আমা’র ব্যবসা ও জমির ধান বিক্রির টাকা এবং স্ত্রীর গহনা বেচে আট’ লাখ টাকা মসজিদের ছাদের জন্য অনুদান দিয়েছি। এটা আমা’র বাবার রুহের মাগফিরাতের জন্য। এ অনুদানে আমিসহ আমা’র পরিবারের সবাই খুশি। ইউনুস আলী গাজীর স্ত্রী হা’মিদা খাতুন বলেন, আমা’র

স্বামী মসজিদের জন্য যে অনুদান দিয়েছেন এতে আমর’া আনন্দিত। আমা’র স্বামী আমা’র শ্বশুরের মৃ’ত্যুর পর যে নিয়ত করেছিলেন (টাকা দান করা) তা পূরণ করেছেন। এ কাজে আমা’র সন্তানরাও খুশি। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহা’ম্মা’দ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের যে খরচ ইউনুস আলী গাজী ও তার পরিবার তা বহন করেছে। তিনি তার বাবার রুহের মাগফিরাতের জন্য দানটি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, একজন সাধারণ পান বিক্রেতা হয়েও ইউনুস আলী মসজিদে আট’ লাখ টাকা দান করেছেন। এ ঘটনা এলাকার মানুষের কাছে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। ঢালাই কাজের মোনাজাতের সময় তিনি কেঁদে ফেলেছেন।