Sunday , February 28 2021

একাধিকবার চুরি করে ধরা খেয়েছিল আলজাজিরা ফিল্মের আলোচিত সামি

আলজাজিরা ফিল্মের অন্যতম চরিত্র আলোচিত ‘সামি’র বি’রু’দ্ধে তদ’ন্ত শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন গোয়ে’ন্দা সংস্থা। এরই মধ্যে তার বি’রু’দ্ধে বিভিন্ন প্র’তার’ণামূলক কাজে অংশ নেওয়া, সেনানিবাসে নি’ষি’দ্ধ হওয়াসহ নানা অ’পরা’ধে সং’শ্লি’ষ্টতার প্র’মাণ পেয়েছে তারা। তদ’ন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সামি কখনো তানভীর সাদাত, কখনো শায়ের জুলকারনাইন, কখনো বা জুলকারনাইন শায়ের খান সেজে প্র’তা’র’ণাসহ অগণিত অ’পরা’ধের স’ঙ্গে জ’ড়িত ছিলেন। র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে আ’র্থিক প্র’তা’রণা’র অ’ভিযোগে ২০০৬ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রে’ফ’তারও হয়েছিলেন সামি। সর্বশেষ গু’জ’ব ও অ’পপ্র’চা’রের অ’ভিযো’গে ২০২০ সালের মে মাসে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে দায়ে’র করা মাম’লার অন্যতম আসা’মি তিনি।

জানা গেছে, সামির প্রকৃত নাম সামিউল আহমেদ খান। অল্প বয়সে মাকে হা’রা’নো’র পর চু’রি ও প্র’তার’ণামূ’লক অ’পরা’ধে’র স’ঙ্গে জ’ড়িয়ে বদলে ফেলেন মায়ের রাখা নাম ‘তানভীর মোহাম্মদ সাদাত খান’। সব সেনানিবাস থেকে ব’হিষ্কৃ’ত হওয়ার সময় তার নাম ছিল ‘সামিউল আহমেদ খান’। মা’দ’ক ও অ’ন্ধ’কার জগতে জ’ড়িয়ে বেছে নেন নতুন নাম শায়ের জুলকারনাইন। কয়েক বছর ধরে জ’ড়িয়ে পড়েন পাহাড়ি উগ্রবাদীদের সঙ্গে। এরই মধ্যে আলজাজিরা ইস্যুতে সহপাঠী ও পরিচিতদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মু’খোশ উ’ন্মো’চন করছেন। তাদেরই একজন সামির ইস্পাহানি স্কুলের সহপাঠী ‘সাইফ এম ইশতিয়াক হোসেন’। ২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে তিনি সামির পরিবার এবং স্কুল ও পরবর্তী কর্মকান্ড নিয়ে একটি বড় স্ট্যাটাস দেন। একই দিন বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটে ‘ওমর শরীফ আরেফিন’ নামে আরেকজন সামি সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে।

শিশুকালেই অ’পরা’ধের হা’তেখ’ড়ি : বাবা অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মো. আবদুল বাসেত খানের চার সন্তানের মধ্যে সামিউল আহমেদ খান সবার বড়। জন্ম ১৯৮৪ সালে হলেও স্কুলের তথ্য মোতাবেক তার জন্মতারিখ ১৯৮৬ সালের ৮ অক্টোবর। ১৪ বছর বয়সে সামি মাকে হা’রা’য়। এর দুই বছর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসার থেকেই অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় সামি। ক্যাডেট কলেজ থেকে ব’হিষ্কা’র হওয়ার পর ভর্তি হয় কুমিল্লার ইস্পাহানি স্কুলে। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে ড্রা’গ নেওয়া, মেয়েদের উ’ত্ত্য’ক্ত করাসহ হেন কাজ নেই যা সে করেনি। মা’দকা’স’ক্ত হওয়ার কারণে আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে সহপাঠী-বন্ধুরাও তাকে এ’ড়ি’য়ে চলত।

কৈশোর থেকেই সেনানিবাসে নিষিদ্ধ : কৈশোরেই চুরি’তে হাত পা’কায় সামিউল আহমেদ খান ওরফে শায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি। ১৭ বছর বয়সে ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি ইসিবিতে কর্মরত মেজর ওয়াদুদের বিদেশ থেকে আনা ট্রাকস্যুট চু’রি করে ধরা প’ড়ে সে। ২০০০ সালের জুলাই মাসে টাইগার অফিসার্স মেস থেকে হাতির দাঁত চু’রি করে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটে অবস্থিত অঙ্গনা জুয়েলার্সে বিক্রি করেও ধ’রা পড়ে। বাবার চাকরির সুবাদে নিজেকে কখনো সেনাবাহিনীর সে’কে’ন্ড লেফটেন্যান্ট, কখনো ক্যাপ্টেন হিসেবে পরিচয় দিত সামি। ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ঢাকা সেনানিবাসে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে সে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বন্ধু উৎপলের কাছে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে প্রমাণের জন্য বেল্ট, বুট ও র‌্যাঙ্ক ইউনিফর্ম কেনে সামি। উৎপলের বাসা থেকেই সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে ট্যাক্সিক্যাব দিয়ে সেনানিবাসসহ ঢাকার প্রথম আলো পত্রিকা অফিস, রাপা প্লাজা, ধানমন্ডি ও চিড়িয়াখানা ঘুরে জাহাঙ্গীর গেট হয়ে সিএমএইচে প্রবেশের সময় বেলা ২টায় মিলিটারি পুলিশের (এমপি) হাতে ধ’রা পড়ে সামি। এর ঠিক দুই দিন পর ২ মে বাবার অ’ঙ্গী’কার’নামায় আর্মি এমপি ডে’স্ক থেকে তাকে ছে’ড়ে দেওয়া হয়।

র‌্যাব পরিচয়ে প্র’তার’ণা, গ্রেফতার : ২০০৬ সালের ২০ জুলাই র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের এ জে টেলিকমিউনিকেশন থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন কিনে একটি ভু’য়া চেক দেয় সামি। একইভাবে প্রাইজ ক্লাব নামক একটি কম্পিউটার ফার্ম থেকে ১০টি ল্যাপটপ কেনার কথা বলে ২টি ল্যাপটপের গুণগত মানের কথা বলে চে’ক দিয়ে ২টি ল্যাপটপ নিয়ে আসে সে। চেক ডিজঅনার হলে অ’ভিযো’গের ভি’ত্তিতে র‌্যাব-১ তাকে গ্রে’ফতার করে। এ ঘটনার পর তাকে এনপিজি ঘোষণা করে সব সেনানিবাস ও দফতরে অ’বা’ঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার পর অ’নিয়ন্ত্রিত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য সামিকে ত্যাজ্য করেছিলেন বাবা লে. কর্নেল (অব.) আবদুল বাসেত। ঠিক এর পরদিন ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই এক ম’র্মা’ন্তিক সড়ক দু’র্ঘট’নায় নি’হ’ত হন তিনি।

একাধিক বিয়ে ও নারী কেলেঙ্কারি : সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই এক সেনা কর্মকর্তার মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন সামি। অ্যান্টেনা ভা’ঙা ভিএইচএফ (ওয়াকিটকি) নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের নি’রাপ’ত্তা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার নামে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হা”তি’য়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল সামির বি’রু’দ্ধে। ব্যবসার কথা বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা হা’তিয়ে নিয়েছিল সে। শ্বশুরের অর্থে হা’ঙ্গে’রিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয় সামি। ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা বলে টাকা হা’তিয়ে নেওয়ার জন্য অনেকেই সামিকে খুঁজছেন। ফলে বহুদিন প্রকাশ্যে আসতে পারে না সামি।

গু’জব ও অ’পপ্রচারের অ’ভিযো’গে মা’মলা : গত বছর সাইবার ক্রাইম ইউনিট অনলাইনে জাতির পিতা, শেখ হাসিনা ও মু’ক্তিযু’দ্ধ সম্প’র্কে ক’টূ’ক্তি ও আপ’ত্তিকর প্রচারণা এবং ক’রোনা’ভাই’রাস নিয়ে অ’পপ্রচারসহ বিভিন্ন গু’জব রটিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য যাদের বি’রু’দ্ধে অ’ভিযো’গ গঠন করে, তাদের অন্যতম শায়ের জুলকারনাইন সামি। ‘উই আর বাংলাদেশি’ পেজ থেকে রা’ষ্ট্রবিরো’ধী প্র’চারণার অ’ভি’যোগে অ’ভিযু’ক্তদের ল্যাপটপ ও মোবাইল অনু’স’ন্ধান করে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পান গোয়েন্দারা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তাসনিম খলিল ও সামিসহ ওই ১১ জনের বি’রু’দ্ধে ২০২০ সালের মে মাসে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মা’ম’লা হয়। এ ‘মা’ম’লার প্রতিবাদে কলাম লিখেছিলেন আরেক অ’পপ্র’চারকারী ডে’ভিড বার্গম্যান। নাম প্রকাশে অ’নিচ্ছুক একাধিক গোয়ে’ন্দা কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশকে টা’র্গে’ট করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সরকারের ভাব’মূ’র্তি ক্ষুণœ করার লক্ষ্যেই কল্পিত ফিল্মটি নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্র’তার’ণা ও মি’থ্যাচা’রে সিদ্ধহস্ত বি’ত’র্কি’ত ব্যক্তিদের দিয়ে আলজাজিরার এই ফিল্ম তৈরির উদ্দেশ্য কারও বুঝতে আর বাকি নেই। তা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।